একটা খাৎনার ঘটনা ও পারিবারিক কাহিনী - শেষ পর্ব

পরেরদিন থেকে লুঙ্গি পরে চলাচল করতে থাকলাম, তবে নুনুর জায়গাটায় ধরে রাখা লাগছিলো। এভাবে চলাচল করতে তেমন অসুবিধা হচ্ছিলো না, দাঁড়িয়ে থাকলে বা বসে, শুয়ে  থাকলে যদি ছেড়ে ও দিতাম কোনো ব্যাথা করতো না। 

সেদিন সন্ধ্যায় আম্মু বললো যে এই ভিটামিন ইনজেকশন নাকি দিতে বলছে, বৃষ্টির কারণে মামা বা খালা কেউ আসতে পারেনি তাই আম্মুকে দিয়ে দিতে বলছে। ইনজেকশনে যে আমার ভয় করেনা এইটা আম্মু জানে, তাই নিশ্চিন্তে সিরিঞ্জে ইঞ্জেকশনটা টেনে হাতে দিয়ে দিলো। আর মেডিসিন রানিং ছিল তাই আমার পুরোটা সময় কোনো ব্যাথা ও অনুভব করতে হয়নি। মানে শরীরে একটা অংশ কেটে ফেলে দিয়েছে তার যে একটু ব্যাথা বা ভোগান্তি টের পাবো তেমন কিছুই ফেস করতে হয়নি। 

কিছুদিন পরে ব্যান্ডেজ খোলার কথা আসলো, এবার মামা জানালো যে কোথাও নিয়ে যাওয়া লাগবে না। ব্যান্ডেজ বাড়িতে নিজেরাই খুলতে পারবো। গরম পানি বানানো হলো আর তাতে কিছু মেডিসিন দেওয়া হলো। ওই পানি একটা মগে নিয়ে আস্তে আস্তে ঢালতে ঢাল ব্যান্ডেজ লুজ হয়ে গেলো আর খোলা গেলো। ব্যান্ডেজ পুরো খোলা হয়ে গেলে দেখলাম অনেকগুলো সেলাই দেওয়া। বললো যে শুকিয়ে গেলে সেলাই এর সুতাগুলো যা দেখা যাচ্ছে সব ঝরে পড়বে। 

সত্য বলতে ব্যান্ডেজ খোলার পরে প্রথম কিছুদিন বেশ সমস্যা হয়েছে। চলাফেরা, ঘুম সবকিছুতে। মানে সাবধানে চলতে হতো, যাতে জায়গাটায় কোনো আঘাত বা চাপ না লাগে। তবে আম্মু একটুও উগ্র মেজাজ দেখায়নি আমার উপরে সেই কয়দিন। বেশ আদর যত্ন করেই রাখছিলো। এর বছরদুয়েক পরে ক্যাডেট কলেজে যাওয়া হয় আমার। তখন একাকিত্ব দূর করার জন্যই খালার ঘটকালিতে আম্মুকে আবারো বিয়ে দেওয়া হয়। এইটা নিয়ে আমার মনে মনে অনেক আপত্তি থাকলেও প্রকাশ করিনি। 

শুধুমাত্র বড় ছুটি না পেলে বাড়িতে যেতাম না। পরে যখন স্বামী স্ত্রীর মধ্যের সম্পর্ক বিষয়ক ধারণা পাই তখন কেন জানিনা আম্মুর উপর রাগ ঘৃণা সব বেড়ে যায়। কারণ আমি লোকটাকে বাপ এর জায়গা কখনোই দিতে পারিনি। আর সেই লোকটার কাছে আম্মুর শরীরের কিনা কোনো প্রাইভেসি নেই। এইটা ভাবলেও মনে প্রচন্ড রাগ ও ঘৃণা কাজ করতো। বাড়িতে গেলেও আম্মুর কাছে যেতাম না তেমন। ছুটির সময় খালার বা মামার বাড়িতেই বেশি সময় কাটাতাম, দাদাবাড়ির দিকেও যেতাম। বাড়িতে থাকলে পড়ার অজুহাতে দূরে দূরে থাকতাম। 

এখন নিজে বিয়ে করেছি চার  বছর হবে। গত কয়েকমাস আগে আম্মুর কাছে যেয়ে মাফ চেয়ে আসছি এইসবের জন্য। 

আম্মু নিজেও বলছে যে আমিও বুঝেছি প্রথমদিক থেকেই তুই আমার বিয়েটা মেনে নিতে পারিসনি। এজন্য আমার প্রতি একটা ঘৃণা থেকেই আমাকে দূরে সরিয়ে দিয়েছিলি কিন্তু আশায় ছিলাম একদিন হয়তো বুঝবি। সৎ বোনকে আমি আমার নিজের বোনের নজরেই দেখি কিন্তু তার বাবাকে আমি মন থেকে এখনো একসেপ্ট করতে পারিনি। চেষ্টা করছি অনেক, এখনো মনকে মানানোর চেষ্টা করে যাচ্ছি। তবে উনার সাথে আমি খারাপ আচরণ ও কখনো করিনি। 

তবে একটা কথা, আসলেই ডাক্তার সেলাই দিলেই যে খারাপ হবে বা ডাক্তারের কাজ খারাপ হবে এইটা সম্পূর্ণ ভুল। আমার ২ জায়গার স্কিন যে এক করা হয়েছে খাৎনায় এইটা বোঝা গেলেও কাটার দাগটা একটুও বোঝা যায়না। ইভেন অনেক হাজামদের কাজের রেজাল্ট ও এমন হয়না।

Post a Comment

0 Comments