একটা ভিন্নধর্মী ঘটনা - পর্ব ১

নিজের ছোট ছেলের খাৎনার জন্য ফেসবুকে সার্চ করতে যেয়ে আপনাদের পেজটা সামনে আসলো। ভাবলাম নিজের স্টোরিটাও দেই, কারণ বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এমন ঘটনা দেখা যায়না খুব একটা। একটু অবিশ্বাস করার মতো  ঘটনার সাথে পরিচিত হন সবাই। ব্যাপারটা নিজের আইডি থেকে দিতে পারছিনা তাই একটি ফেক আইডি ব্যাবহার করলাম।
আমার পরিবার মূলত ভারতীয়, আমার পরিবার কনভার্টেড মুসলিম। হিন্দু দের ৪ রকম জাত আছে, ৩ টা উচ্চশ্রেণী ১ টা নিন্মশ্রেণী। মুচি হিসেবে পরিচিত এইদেশে যারা, তাদের তো নিন্মশ্রেণী হিসেবেই দেখা হয়। আমরাও তাই ই ছিলাম শুনেছি। তো এই ধর্মান্তরিত হওয়ার পরে প্রাণের ভয়ে আমাদের বাংলাদেশে আশা এবং অনেকটা সময় আত্মগোপনে থাকা লাগছিলো, এমনকি সেখানে কাউকে এটাও বলা হয়নি যে আমার সাথে যে সে আমার স্ত্রী। বাবা - মা তাদের ছোট মেয়ে হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলো।  আমরা জাতের মধ্যে বিবাহটা খুব কম বয়সে দেওয়া হতো ওখানে। আমার ছিল ১১ বছর আর আমার স্ত্রীর ৮ বছর। না তার পিরিয়ড শুরু হয়েছিল না আমার শরীরে যৌবন আসছিলো। আর বিয়েটা ঠিক করা হয়েছিল যখন আমার বয়স ৬ ছিল তখন। বিয়ের কয়েক মাস পরের ঘটনা আমাদের পরিবর্তনের। আমার স্ত্রী যায় দিয়েছিলো যে আমাদের সাথেই থাকবে, কারণ সে তার পরিবারে সুখী ছিলোনা। তাদের পরিবার অনেক বড়, বেশ অভাবের ছিল। আমার শশুর তার পরিচিত দালাল এর সাহায্য নিয়েই আমাদের দেশ ছাড়তে সাহায্য করেন, বলে দিয়েছিলেন বেঁচে থাকলে ভবিষ্যতে দেখা হবে (এখনো হয়নি, ভারতেও আর যাওয়া হয়নি)। বোনের বর তাকে ছেড়ে দিবে বলেছিলো যদি আমাদের ফলো করে। কিন্তু সে তার বরের সাথে দেয়নি এবং চলে আসে। মুসলিম ধর্মীয় অনেক কিছু আগেও জানতাম, পরে আরো অনেক কিছুই জানছি। আমার স্ত্রী আমাকে একদিন বলে যে মুসলমানদের তো এটার মাথার চামড়া কাটা থাকে। তোমারও তো তাহলে এখন সেটা করা উচিত, আম্মাও দেখলাম আপা আর আব্বার সাথে আলোচনা করতেছিলো। ব্যাপারটা আমি অনেক আনইজি ফিল করতেছিলাম এবং তাকে বললাম এইসব নিয়ে কিছু না বলতে। কিন্তু বাবা-মা ফাইনাল করে ফেললেন যে এখনো বয়স কম আছে, চাইলে করানো সম্ভব। পরেরদিন মা ব্যাপারটা জানায় আমাকে, এবং আমি না করে দেই। কিন্তু তারা তাদের বুঝানোর চেষ্টা জারি রাখেন। একটা সময় আমিও বুঝলাম যে এটা গুরুত্বপূর্ণ এবং করতে হবে। তো একজন হাজাম ঠিক করা হলো যে বাড়িতে এসে করাবে। হাজামকে এভাবে বলা হয়েছিল যে বিভিন্ন কারণে দেরি হয়ে গেছে। এখন লোকলজ্জার ব্যাপার, তাই কাউকে জানতে না দিয়ে গোপনে করে ফেলবে আমাকে। নির্ধারিত দিনে সন্ধ্যার একটু পরে হাজাম আসে। আমাকে বলে যে তোমার তো বাপ বয়স যা, এখন ভুলভাল মিথ্যা কথা বলে, বোকা বুঝ দিয়ে করানোর বয়স না। জানো তো সব ই। বললাম জি চাচা।

Post a Comment

0 Comments