তানিমের মুসলমানি খাৎনা

মাস্টারের ছেলে তানিম। নয় বছর বয়স। চতুর্থ শ্রেণীতে পড়ে। ছেলের মুসলমানী করানো নিয়ে মাস্টার ভাবছেন। মানে খাৎনা। এটা না করালে তো ছেলে মুসলমান হবে না। দিন তারিখ ঠিক হলো। মানুষজনকে কার্ড ছাপিয়ে দাওয়াত দেয়া হলো। গুনি বা হাজাম বলে রাখা হলো। তানিমকে পাড়ার ছেলেরা খেপাচ্ছে - তরে কাটাব, এক্কেবারে কুড়াল দিয়া কোপ দিয়া কাইট্টা ফালাব, আঙ্গুল দিয়ে ঈশারা দিয়ে বুঝিয়ে দিচ্ছে কি ঘটতে যাচ্ছে তানিমের। মেয়েরাও বাদ যাচ্ছে না। তার দাদী সান্ত্বনা দেন এ বলে যে, ছেলেদের সবাইকেই তো এটা করতে হয়, আর মেয়েদের বাচ্চা হওয়ার সময় তেউল(কাঁচা বাঁশের উপরের পাতলা ফালি) দিয়া পেট কাটে। তবুও তানিমের চিন্তা দূর হয় না। তানিমের মা একটি বিষয় নিয়ে চিন্তিত। ছেলের ওখানে চামড়া 'নিহে না' মানে চামড়া জট লাগানো। এতে ওর কষ্ট বেশী হবে। জট ছাড়ানোরর জন্য ওর মা মুড়ি ভাজার পোড়া বালু আর পানের বোঁটা এনে বললেন, 'বোঁটার আগায় বালু নিয়া অইহানে দিয়া ঘুরান দে। তাইলে নিকব। কষ্ট কম অব'। তানিম বোঁটা ঘুরায়। জ্বালা করে। আবার ঘুরায়। আবার জ্বালা করে। সে এবার ক্ষান্ত হয়। দিনটা এসে গেল। খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন। সেমাই, পিঠা ইত্যাদি নাস্তা। আবার চাল-চিনি মুঠিভরে বিলি করা হচ্ছে। তানিমের মামা লুঙ্গী, শার্ট নিয়ে এসেছেন। বাড়িতে উৎসবমুখর পরিবেশ। হাজাম হাজির। এসে পুরাতন সুতি কাপড়ের শাড়ীর টুকরা চাইলেন। সেটা আংশিক পুড়িয়ে ছাই তৈরী করলেন। কুলায় করে সোয়াসের চাল, একুশ টাকা, কাঁচা হলুদের ফালি, দুর্বাঘাস আনা হলো। মাটির খোরা বা ঢাকনিতে সরিষার তেলে সলতে চুবিয়ে আগুন ধরানো হলো। তানিমকে লুঙ্গী পরিয়ে নিয়ে যাওয়া হলো। পিড়িতে বসানো হলো। তানিমের চেহারাটা তার জেঠা অন্যদিকে ফিরিয়ে ধরলেন। ব্যাথা নাশক ইঞ্জেকশন করে হাজাম একটা কাঠি ওখানে ঢুকিয়ে ঘুরান দিল। তানিম ব্যাথায় কঁকিয়ে উঠল। হাজাম তার সাথে কালেমা পড়তে বলল। কালেমা তৈয়প, লা ইলাহা....। কালেমা পড়ার সময় হঠাৎ করে ফ্যাস করে চামড়াটা কেটে ফেলল। চিৎকার করে তানিম কাঁদতে লাগল। হাজাম দ্রুত কাপড়ের ছাই লাগিয়ে ন্যাকড়া দিয়ে একটা ব্যান্ডেজ করে দিল। তানিম কাঁদতেই থাকল। হাজাম চাল, টাকা ও বখশিশ হিসেবে আরো পাঁচশ টাকা নিয়ে বিদায় হলো। অন্যান্য নিমন্ত্রিতরাও বিদায় হলেন। তানিমের শিশ্নাগ্রভাগের ত্বক কলার পাতায় পেঁচিয়ে তার মা রান্নাঘরে চুলার উপর ঝুলিয়ে রাখলেন এই বিশ্বাসে যে, এতে এই চামড়াও শুকাবে, আর তানিমের ক্ষতও দ্রুত ভালো হবে। রাতে ব্যথা তীব্র হলো। পরদিন ফুলে গেল। মাস্টার চিন্তিত হয়ে পড়লেন। অবশেষে ডাক্তারের পরামর্শে এন্টিবায়োটিক ট্যাবলেট খেয়ে ও নেবানল পাউডার দিয়ে ক্ষত সারল এক সপ্তাহ সময় নিয়ে।
এই ঘটনা তানিমের এক দুঃসহ স্মৃতি হয়ে
থাকল সারাজীবন।
লক্ষ্য করুনঃ
*খাৎনা মহানবী (সা) এর সুন্নত। স্থায়ী
পবিত্রতার একটি ব্যবস্থা।
বৈজ্ঞানিকভাবেও এর উপকারিতা
প্রমাণিত।
* এটি নিতান্ত গোপনীয় ব্যাপার। উৎসব
ও আনুষঙ্গিক যা করা হয় সবই কুসংস্কার বিদআত যা
বর্জনীয়।
* বর্তমানে সার্জারীর মাধ্যমে
নিরাপদে খাৎনা করানো যায়।

Post a Comment

0 Comments