কিন্তু বড় মামা আর আরিফ ভাই না আসা পর্যন্ত ব্যান্ডেজও কাটা হচ্ছিল না।ঠিক হলো ১৭-১৮ এপ্রিল তারা আসলে ২০ তারিখই কাটা হবে।ততদিনে মুসলমানির ২ সপ্তাহ হয়ে যাবে।দেখতে দেখতে ২০ তারিখ এলো। ডাক্তার ব্যান্ডেজ খুলে দিলো।আর ওদিকে আবার নতুন এক নিয়মের কথা বললো বড় মামা।মুসলমানির দিনের মতো মুসলমানির পর প্রথম গোসলও নাকি বাড়ির উঠানে ঘরের মুরুব্বি মহিলারা করিয়ে দেবে। এটাই বাড়ির নিয়ম। আরিফ আর রাদিফ ভাইকেও নাকি এই নিয়ম মানতে হয়েছিল।ঠিক তাই হলো বাড়ির উঠানে তিন মামী ও ভাবী মিলে গোসল করিয়ে দিলো।আশেপাশের বাড়ির কয়েকজন আমার গোসল দেখতে এসেছিল।মুসলমানির গোসল দেখা নাকি ওখানে নরমাল বিষয়। আমার অবশ্য সেদিকে ভ্রুক্ষেপও নেই। থাকবেই বা কিভাবে লজ্জা জিনিসটা যে আমার ভেতর থেকে এই কয়দিনে একেবারেই মরে গেছে।তাই বাড়ির বাইরের মানুষ থাকলেও বিন্দুমাত্র লজ্জা লাগেনি আমার।সেদিন বুঝতে পেরেছিলাম যে আমাদের জীবনে হঠাৎ ঘটা সবকিছুই একদিন খুব স্বাভাবিক হয়ে যায়।ভাবির মুখে শুনলাম আজ আমার গোসল উপলক্ষে দুপুরে প্রায় ২০০ মানুষকে দাওয়াত দেয়া হয়েছে তাই গোসল শেষ হওয়ার পরই আমি গিয়ে বড় মামার দেয়া নতুন কাপড় পড়ে ফেললাম।
মজার বিষয় হচ্ছে আমার মেঝো মামার মেয়ে মিলি আজ আমার জীবনসঙ্গী।২০২০ সালের ডিসেম্বরে পারিবারিক আয়োজনে আমাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।আমাদের বিয়ের মূল আইডিয়া এসেছিল ভাবির মাথায়।আজও ওনি সুযোগ পেলেই সেই মুসলমানি নিয়ে আমাকে খোঁচা দেন আর আমার স্ত্রী মিলিকে বলেন তুই তো বিয়ার আগেই জামাইয়ের সব দেইখা লাইছিলি নতুন আর কি দেখবি!আমাদের বাসর রাতেও আলোচনার একটি বড় বিষয় ছিল সেই মুসলমানি। দাম্পত্য জীবন বেশ ভালো কাটছে আমাদের। আপনারা দোয়া করবেন আমাদের জন্য।ধন্যবাদ।
0 Comments