১৬ বছর বয়সে মুসলমানির গল্প - পর্ব (১)

আমার জন্ম হয়েছিল লন্ডনে। পারিবারিক ব্যবসা ছিল সেখানে আমাদের।যা বাবা-মা দুজনেই দেখাশোনা করতেন। ১০-১১ বছর বয়সে মা ও আমার আমার বাংলাদেশে একেবারে চলে আসা পর্যন্ত সিংহভাগ সময় আমার ওখানেই কেটেছিল।তার আগ পর্যন্ত নিয়ম করে প্রতি বছর একবার বাংলাদেশে বেড়াতে আসতাম।২-৩ মাস থেকে ফিরে যেতাম।

ও হ্যা বলা হয়নি আমার বাবার কোনো ভাই বোন ছিল না তাই গ্রামের বাড়ি যাওয়াও হতো না।বাংলাদেশে এলে থাকা হতো মামাবাড়িতে।বাংলাদেশে­ চলে আসার মূল কারণ ছিল আমার বাবা-মায়ের ইচ্ছা। তারা চেয়েছিলেন আমি যেন বাংলাদেশে পড়ালেখা করে শুধুমাত্র উচ্চশিক্ষাটা লন্ডনে করি।

বাংলাদেশে চলে আসার পর মামাবাড়ির স্কুলে ভর্তি হয়েছিলাম ক্লাস সিক্সে।তার এক বছর পর লন্ডনে ব্যবসা সম্প্রসারণ করায় মা সেখানে ফিরে যান বাবার কাছে।বলে রাখা ভালো আমার তখনও মুসলমানি হয়নি। কথা ছিল ক্লাস সেভেনেই আমার মুসলমানি করানো হবে মামাবাড়িতে।কিন্তু আমাকে রাজি করানো যায়নি।আসলে বরাবরই ভীতু ও লাজুক ছিলাম স্কুল জীবনে।মুসলমানির নাম শুনলে ভয়ের পরিমাণ আরও বেড়ে যেতো। যখন ক্লাস নাইনে পড়ি তখন বাবা-মা বাংলাদেশে আসেন আমার মুসলমানি করাতে।সেবার আমাকে রাজি করানো গেলেও মুসলমানির ঠিক দুদিন আগে আমার নানা ভাই মারা যান।যে কারনে সেবারের মতো মুসলমানি পিছিয়ে যায়।২০০৮ সালে যখন ক্লাস টেনে পড়ি তখন পারিবারিক ব্যবসায় খুব ব্যস্ত থাকায় তারা বাংলাদেশে আসতে পারবেন না বলে জানতে পারি।তবে বাবা আমার বড় মামাকে বলেন আমার মুসলমানির কাজটা যেন তারাই সেরে ফেলেন।বড় মামা বেশ খুশিমনে মুসলমানির সমস্ত প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেন।

Post a Comment

0 Comments