সবার মুসলমানি হাজাম বা ডাক্তারকরে কিন্তু আমারটা একটু ইউনিক তাই ভাবলাম শেয়ারকরি সবার সাথে।আম্মুর বিয়ে হয়েছিল খুবছোট বয়সে, ক্লাস ৮ এ পড়ার সময়।তবে দাদাবাড়িতে কেউ তাকে পড়াশোনা করতে নিষেধ করেনি কারণ আম্মু মাদ্রাসায় পড়তো আর দাদারবাড়িও বেশ ধার্মিক পরিবার। আমাকে সামলিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছিলো, বাড়ির সাপোর্ট থাকায় খুব বেশি সমস্যা হয়নি কখনো।মাঝে মধ্যে আম্মুর মাদ্রাসাতে আমাকে নিয়েও যেত।এটা তখনের কথা যখনআম্মু একটি মহিলা কামিলমাদ্রাসায় ফাজিল শেষ বর্ষেছিল। উনাদেরমাদ্রাসার একজন শিক্ষিকা আমাকেদেখে এবং কথাও বলেআমার সাথে। আমাকেওআম্মু সালাম দিতে বলেনউনাকে আর কথাও বলি। বিভিন্নকথায় কথায় উনি জানতেচায় যে ছেলের মুসলমানিকরানো হয়েছে কি না। আম্মুবলে যে এখনো করানো হয়ে উঠেনি, ফাজিল শেষহোক। কামিলেভর্তি হয়ে তারপরে করবো। উনিবলেন যে এটা এমনকোনো জিনিস না যে এখন করলে সমস্যা হবে বরঞ্চ যত দেরি করবততই সমস্যা। হাসানহোসাইন এর তো জানোইকত ছোট বেলায় দেওয়াহয়েছিল। যাইহোক, কোনো ধর্মীয় বিধান ফেলে রাখতে নেই।
এবার আম্মু বললেন আসলেআমি তো এখানে ভাড়াথাকি, শশুর বাড়িও দূরে। এখনসেখানে যেয়ে করলে পড়াশোনারক্ষতি হবে এজন্যই আগাতেচাচ্ছি না। নয়তোআমিও অনেক আগেই করিয়েফেলতে চেয়েছিলাম, ওর আব্বুও।
তখন উনি নিজের ছেলেরকথাও বললেন যে ১মাস বয়স হওয়ার কিছুদিনপরে করিয়েছিলেন, বাচ্চা কোলে দুধখেতে খেতেই ভালো হয়েগেছে। তেমনঝামেলাও হয়নি। আম্মুবললেন যে ওর আব্বুরসাথে কথা বলে জানাবো।
আব্বুকেরাত্রে জানালে আব্বুও রাজিহয়ে যায় এবং বলেযে তোমার উস্তাজা কেইজিজ্ঞাসা করো যে ভালোকোনো কারোর খোঁজ দিতেপারে কি না।দাদাবাড়িতে ও নানাবাড়িতেও মোবাইলেজানিয়ে দেওয়া হয় এটা। পরেক্লাসের দিন উনাকে জিজ্ঞাসাকরলে উনি মাদ্রাসার আরেকশিক্ষকের নাম বলেন।আম্মু কিছুটা অবাক হয়েবলেন যে স্যার তোমাওলানা মানুষ, উনি আবারএইসব ও পারেন! আম্মুরসেই শিক্ষিকা জানান যে উনিশুধু পারেন ই না, বেশ ভালো অভিজ্ঞ ও। এমনকিএই মাদ্রাসার অনেক টিচার, স্টুডেন্টএর বাচ্চার খাৎনা করে দিয়েছেনউনি তও বিনা পারিশ্রমিকএ । কোনোভাবেওএক পয়সাও দিতে পারবনা, দিতে চাইলে আরো রাগহন। আব্বুকেজানালে উনিও এক বাক্যেরাজি। সেইশিক্ষককে জানালে তিনি বলেনযে যেকোনো দিন উনিথাকলে করানো যাবে, কিকি কিনে আনতে হবেউনি একটা পেপার এলিখে দিলেন।
বাজারথেকে আমার জন্য লুঙ্গি, জামা, গামছা কেনা হলোআর একটা প্যাকেট ছিলকিন্তু সেটা কি আমিজানতাম না। বয়স৬ বছর ছিল আমার, বুঝতাম যে মুসলমানি কিতবে সাহসী ছিলাম অনেকতাই কোনো কষ্ট হয়নিআমাকে বুঝাতে।
এর পরে একদিন আম্মুর মাদ্রাসায় যাই, সেদিন আম্মুর ক্লাস ও ছিলোনা। আমাকে একটা ক্লাসরুমে নিয়ে যেয়ে ২টা বেঞ্চ একত্র করে শোয়ানো হয়। আম্মুর একজন ক্লোজ ফ্রেন্ড আন্টি ছিল সাথে, আব্বু , সেই স্যার এবং সেই শিক্ষিকা ও আরো ২জন ছিলেন। সেই প্যাকেটটা আব্বু উনাকে দিলেন, উনি আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন ভয় পাচ্ছি কি না। আমি বললাম না। উনি বললেন আমি যা যা পড়তে বলবো সাথে সাথে পড়বা, কোনো কিছু হবেনা।
0 Comments