আসসালামুয়ালাইকুম আমি সাগর। আজ আমি আপনাদের সাথে আমার খাৎনার অভিজ্ঞতা শেয়ার করব। আমি থাকতাম গ্রামে। আমার বাবা মা থাকত ঢাকা শহরে বাবার ব্যাবসার কাজের জন্য। আমি আমার দাদা দাদির সাথে দেশের বাড়ীতে থাকতাম। সময়টা ছিল তখন শীতকাল। আমি তখন ক্লাস থ্রী তে পড়তাম। আমার বার্ষিক পরিক্ষা তখন শেষ। হঠাৎ করে বাবা মা ঢাকা থেকে বাড়ীতে আসল। তাদের দেখে আমি অনেক খুসি ছিলাম। কেননা আব্বা আম্মা প্রতিবার দেশের বাড়ীতে আসার সময় আমার জন্য অনেক জিনিস নিয়ে আসত। এবারো তার ব্যাতিক্রম হয় নি। এভাবে একদিন গেল। তো পরেরদিন বিকাল বেলা দাদা বাজার থেকে শপিং ব্যাগে কি জেন এনে আম্মার হাতে দিল। আমি তখন বুঝিনি। আর বোঝার মুডেও তখন ছিলাম না কারন আমার একটা দাঁত উঠবে তাই হালকা ব্যাথায় আমি ঘরে বসে ছিলাম। তারপরেরদিন সকাল বেলা আমি দাদার সাথে বাজারে গিয়ে চুল কেটে আসলাম। বাসায় আসার পর আম্মা গরম পানি করে সাবান দিয়ে ভালোভাবে আমাকে গোসল করিয়ে দিল। গোছল শেষে ঘরে এসে যখন প্যান্ট পড়ব তখন দাদি আর আম্মা প্যান্ট পড়তে দিল না। তখন সেই দাদার দেয়া শপিং ব্যাগ থেকে বের করে পাঞ্জাবী আর নতুন আনা লুঙ্গি পড়তে দিল। আমি মায়ের কাছে কারন জানতে চাইলে পাশ থেকে দাদি বলে উঠল আজ তোমার মোসলমানি করানো হবে। একথা শুনে আমি অনেক ভয় পেলাম। কেননা এর আগে আমি হাজাম কর্তৃক গ্রামে আমার সমবয়সী অনেক বন্ধুদের মোসলমানি করতে দেখছি। তাই আমি অনেকটা ভয় পেলাম। পাশে আমার কাকা বসে ছিল সে বলল আরে ভয়ের কিছু নেই আমরা যাবো আর চলে আসবো। মা তখন হালকা তেল দিয়ে মাথা চিরনি করে দিল। আমি মনের মাঝে ভয় নিয়ে বারান্দায় ছোপার উপর বসে ছিলাম। একটু পর বাবা বাজার থেকে বাজার নিয়ে আসলেন মাছ মাংস নাম না জানা আরো কত কি জেন। তারপর বাবা আর কাকা এসে বললেন চলো আমরা যাই।
আমার ভয় তখন আরো বাড়ল। যাওয়ার আগে আম্মা আর দাদি অনেক আদর করে দিল। তারপর আমি বাবা আর কাকার সাথে বের হয়ে চলে আসলাম। আমাদের বাজারে তখন নতুন একটা ডায়াগনস্টিক সেন্টার চালু হইছে। ওখানে সব ধরনের চিকিৎসা করা হয় জানতাম। তাই আমার কাকা আর বাবা আমাকে ওখানে নিয়ে আসল। ওখানে এসে দেখি ডাক্তার মানে যে মোসলমানি করবে সে একটু ব্যাস্ত আছে তাই রিসিপশনের সদস্যরা আমাদের ওয়েটিং রুমে বসতে বলল। আর তারা আমার সাথে কথা বার্তা দুষ্টমি করতে লাগলো। এর মাঝে ডাক্তার সাহেব চলে আসলেন। কিন্তু আমি তাকে চিনি কেননা এর আগে আমি একবার খেলতে গিয়ে হাতে ব্যাথা পেয়েছিলাম তখন সে ওষুধ দিছিল আমায়। তাই সে আমায় দেখে একটা মুছকি হাসি দিয়েছিল। আর ডাক্তারের সাথে কাকা পূর্ব পরিচিত ছিল। তখন ডাক্তার সাহেব এসে বলল কিরে ব্যাটা এত ভয়ের কিছু নেই।
0 Comments