একটি ভিন্নরকম মুসলমানির গল্প

জীবনে এই অব্দি বেশ অনেকগুলো মুসলমানি করানো দেখেছি। কিন্তু আমার জন্য যে আব্বু কোথা থেকে একটা হাজাম ধরে আনছিলেন। মনে হয় জন্মের সময় মুখে মধু দেয়নি তার বাপ মা। ওই সময়ের সম্পূর্ণ কিছু হুবহু তুলে ধরার চেষ্টা করছি।
বাড়িতে তখন আমার আব্বু আম্মু , একজন পার্মানেন্ট কাজের মানুষ ছিল যাকে গ্রাম থেকে আনা হইছিলো।
তখন আমার বয়স ৭ বছরের মত ছিল। হাজাম মুসলমানির দিন আসে, আমার সাথে সামান্য কথা বলে। বেড এ কিছু একটা বিচার আর উনার জিনিস পত্র কিছুটা রেডি করেই রাখে। এরপরে আব্বুকে বেড এ পা ছড়িয়ে বসতে বলে এবং ঐভাবেই আমাকে কোলে নিয়ে বসতে বলে পা ২ দিকে ছড়িয়ে। আব্বু খাটের সাথে হেলান দিয়ে বসে আমাকে নিয়ে বসেন। আম্মু বেডে ছিল পাশে আর সেই কাজের খালা পাশে দাঁড়ায় ছিলেন। আমি বেশ ভয় পাচ্ছিলাম। কিন্তু হাজাম খালি বকা দিচ্ছিলেন। পা ভাঁজ করে ফেলছিলাম ভয়ে ২-৩ বার উনি টেনে সোজা করে নিলেন পা।
এবার উনি নুনুতে ধরলেন আমিও একটু ভয় পেয়ে হাত আগালাম, উনি হাত ছাড়িয়ে নিলেন এবং আব্বু ঐবার হাত ধরে রাখলেন।
হাজাম নুনু ফুটালেন আর একটা কাঠি রাখলেন ফুটানো মুন্ডির উপরে তখন আবার ভয়ে চিল্লায় উঠলাম।
হাজাম : এই কি হইছে ? ব্যাথা দিছি আমি ?
আমি : আমি ব্যাথা পাচ্ছি (আসলে পাইনি)
হাজাম : আবার মিথ্যা কথা বলে, আমি কোনো ব্যাথা দেয়নি। হুদাই নড়াচড়া করে।
আব্বু কি একটা যেন বললো খেয়াল নাই। আমি চিল্লাচ্ছিলাম
আম্মু : আতুরে (আতিক, আমার খালাতো ভাই) কত ছোট থাকতে মুসলমানি করায় লয়ে আইছি না। একটু ঐরাম হয় আব্বা, এইডা কোনো ব্যাপার না, হইয়া গেছে।
কাজের খালা : আর একটু , একটু ব্যাথা পাইতেই হয়। তুমি হিন্দু ? মুসলমানি করতে হইবো না ?
এই সময় হাজাম এর কাঠি দিয়ে মাপ নিয়ে চিমটা লাগানো হয়ে গেছে
হাজাম : এই তোমার নাম কি বলো দেহি ?
(উনি উনার চাকু বের করে সামনে রাখছেন তখন আর একটা সাদা পাতলা কাপড় আমার দাবনার উপরে রাখছে। )
আমি উত্তর দেয়নি,  উনি বললেন এই তুমি দেখো, এরপরে বাম পা একটু ভাঁজ করে ফেলছি আবার উনি হাটু ধরে ধাক্কা দিয়ে বললেন এই তুমি সরো। আমি পা সোজা করে ফেললাম আবার।
কাজের খালা : এই তুমি আম্মুর দিকে চাও, আম্মুর দিকে চাইয়া থাহো।
আম্মুর দিকে তাকানো মাত্র নুনু কেটে দিছে হাজাম। আমি চিল্লায়ে কান্না করে উঠলাম আর আম্মু বলে চিল্লাচ্ছিলাম আর হাত বাড়ালাম। আম্মুও আমার হাত ধরলো, মুখে হালকা চিন্তার ছাপ।
হাজাম : এই তুমি দেখো, তুমি দেখোনা, খালি ফুটায় দিছি।
কাজের খালা ৩ বার বললেন , কিচ্ছু হয়নাই।
আম্মুও কি কি যেন বলতেছিলেন।
হাজাম আরেকটু রাগ নিয়ে জোরে করে বললেন, ধ্যাৎ
কাজের খালা বললেন , কিচ্ছু হয়নাই ভাইয়া, এই যে শ্যাষ।
আম্মুও বললেন শ্যাষ , আমার পুলাডা না ......
সুইচ খাটের কাছে ছিল তাই আম্মুকে উনি বলতেছিলেন, আন্টি ফ্যান ছাড়েন।  হাজাম বললো না ফ্যান ছাড়া যাবেনা।
হাজাম এই সময়টা নুনু দাবনার উপরে রাখা কাপড়টা দিয়ে মুছে উল্টে দিয়েছিলো আর কি একটা ওষুধ দিয়ে দিলো যেটায় আরো জ্বলছিল। আমি একটু চিল্লাচ্ছিলাম তখন আবার।
আম্মু : আব্বা .....
কাজের খালা : কিচ্ছু হয়নাই , কিচ্ছু হয়নাই। শ্যাষ , তোমার কাম শ্যাষ , তোমার কাজ শ্যাষ।
আব্বু : এইবার খালি বাইন্দা দিবো , বাইন্দা দিলেই শ্যাষ। আম্মুও "হ" বলে যায় দিলো।
আম্মু : রক্ত ও যায়নাই, আতুর কি রক্ত গেছে মেডিকেলে।  কিচ্ছু হয়নাই আমার পোলার সেই হিসেবে। আমরা তো ভাবছিলাম কি না কি।
কাজের খালা : কিচ্ছু হয়নাই , এট্টু এট্টু পোলাপানদের মুসলমানি হয়। মোসলমানি না দিলে কি মুসলমান ? হিন্দু না তাইলে?
আম্মু : তুমি নামাজ পড়বা কেমনে, ঈদ করব কেমনে ?
কাজের খালা : তোমার নামাজ হইবো না জানো, গরু কুরবানী দিবা, হের সামনে যাইবনা তুমি ?
আম্মু : তাইলে ??
আবারো বেশ ব্যাথা লাগছিলো তাই চিল্লায় উঠলাম
কাজের খালা : এট্টু ব্যাথা হয়  ই ভাইয়া, ভাইয়া না ভালো ? সুনা ভাইয়া
আমি : আমি ব্যাথা পাই।
হাজাম : এইদিকে দেখো, না দেখলে বুঝবানা তুমি
আম্মু ও কাজের খালা সায় দিয়ে বললেন : দেহো তুমি দেহো, কিচ্ছু হইবোনা।
কাজের খালা : এর চেয়ে কত ব্যাথা পাও, ফুস্কা (ফোসকা) খাইয়া, দাও দিয়া হাত কাইট্টালাও, ছুরি দিয়া হাত কাইট্টালাও, কি হয়।
আম্মুকে হাজাম সাদা কাপড় দেখিয়ে বললেন চিকন করে ছিড়ে দিতে।  আম্মু কে খালা বললেন বানবো তো তাই।  এবার আম্মু আমার হাত ছেড়ে কাপড় ছিড়ে হাজামকে দিলেন।
আমি : আম্মু অনেক জ্বলতাছে।
আম্মু : ইকটু জ্বলাডা কুনু ব্যাপার না।
কাজের খালা : মুসুলমানি তো হইয়া ই গেল।
আম্মু : আচ্ছা,এতো তাড়াতাড়ি হইয়া যাইবো চিন্তাই তো করিনাই।
আব্বু : হ আমিও তো
কাজের খালা : হ হ ঠিকই তো, মেডিকেলে যাইয়া বইয়া থাকতা, মাইনষের ডা দেখতা। সুই দিতো ধইরা, আরো কত ঝামেলা।
হাজাম : যাও যাও কাম শেষ।
কাজের খালা লুঙ্গি এনে দিলো, আব্বু পরিয়ে দিলো। 


লোকটা বদমেজাজি টাইপের হলেও কাজে ভালোই দক্ষ ছিল

Post a Comment

0 Comments