রায়হানের মুসলমানি - ১ম পর্ব

আব্বুর চাকুরীর সুবাদে আমার জন্ম ও শৈশব কেটেছে বিদেশে। ক্লাস ৬ এ পড়ার সময় আমি,আম্মু আর আপু বাংলাদেশে চলে আসি।বাংলাদেশে আসার পর আমার প্রথম কাজ ছিলো,ভালো কোনো স্কুলে ভর্তি হওয়া। কাজেই আমি পড়াশুনা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ি।
তখন আমি ক্লাস ৮ এ পড়ি।একদিন সন্ধ্যায়,আমাদের উপরের ফ্ল্যাটের আন্টি,আমাদের বাসায় আসেন।তাঁর ছোট ছেলের মুসলমানি হয়েছে গতকাল।আন্টি মুসলমানির অনুষ্ঠানে আমাদেরকে দাওয়াত দিতে এসেছেন।তখনই আম্মুর মাথায় ব্যাপারটা আসলো যে,তাঁর ছেলেরও তো মুসলমানি হয়নি এখনও।আম্মু সাথে সাথে বিষয়টা নিয়ে আব্বুর সাথে ফোন কথা বললেন।আব্বু বললেন তাঁর জন্য অপেক্ষা না করে,যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আমাকে যেন মুসলমানি করিয়ে দেয়া হয়।এমনিতেই অনেক দেরি হয়ে গেছে।
আম্মু প্রথমে আপুর সাথে এ ব্যাপারে কথা বললেন,তারপর আমাকে জানালেন।আমি অনেক ভয় পেয়ে গেলাম।এমনিতে আমি ইনজেকশন দিতেই অনেক ভয় পাই।তার ওপর,আমার অনেক লজ্জাও লাগতেছিলো। আমি কিছুতেই রাজি হচ্ছিলাম না।কিন্তু ওরা বললো,এইটা নাকি করতেই হবে।অনেক চাপাচাপির পর,আমি রাজি হলাম কিন্তু শর্ত দিলাম যে,আমি কিন্তু কিছুতেই হসপিটালে যাবো না আর বাসার বাইরের কাউকেও এই ব্যাপারে কিছু বলা যাবে না।আম্মু রাজি হলেন।সবাই আলোচনা করে ঠিক করলাম,অর্ধ-বার্
ষিক পরীক্ষার ছুটিতে আমরা কাজটা সেরে ফেলবো।ছোট খালার বান্ধবী,সুমি আন্টি একজন ডাক্তার।আমাদের পরিবারের সবার অসুখ-বিসুখে আমরা তার পরার্মশ মত চিকিৎসা নেই।উনি আমাদের পারিবারিক ডাক্তার এর মতো।আমি আর আপু তাকে সুমি আন্টি বলেই ডাকি।আম্মু প্রথমে তাঁর সাথেই এ নিয়ে কথা বললেন এবং আমার হসপিটালে না যাওয়ার প্রতিজ্ঞা,আমার ইঞ্জেকশনে ভয় সহ পুরো বিষয়টা খুলে বললেন।সুমি আন্টি শুনে কিছুটা অবাক হলেন।উনি আম্মুকে বললেন,এর আগেও অনেকবার তিনি মুসলমানি করিয়েছেন।কিন্তু তারা সবাই বাচ্চা ছিল।আর আমি অনেক বড় হয়ে গেছি।তাই আমার মুসলমানি বাসায় করানো সম্ভব হবে কিনা এ ব্যাপারে তিনি কথা দিতে পারছেন না। তারপরও,আন্টি আম্মুকে এই সব নিয়ে চিন্তা না করতে বললেন আর পরীক্ষা শেষে আন্টিকে জানাতে বললেন।আম্মুর সাথে কথা শেষ করে আন্টি আমার সাথে কথা বলতে চাইলেন।আমি ফোন ধরার পর,আন্টি আমাকে এইসব নিয়ে চিন্তা করতে নিষেধ করলেন আর মন দিয়ে পড়াশুনা করতে বললেন।

Post a Comment

0 Comments