Story
আমার ছেলেবেলা ও মুসলমানির কাহিনী
আমার বিয়ের বয়স পাড় হয়ে যায় তবুও যে খৎনার বয়স হয়-ই না ৷ আর হবেই কি করে শুনি ! গোঁড়া মেরে কেটে ফেলা সে কি একটু খানি কথা ! বাড়িতে কোন হাজাম আসলেই আমি হাওয়া (যারা খৎনা করায় তাদের আমরা বলি হাজাম) ৷ ধাওয়া করার সুযোগ পাবে কই ! বড় আপু মেহেরুলের পা লম্বা লম্বা, ধাওয়া করার সুযোগ দিলে নির্ঘাত ধরা পড়বো ! সেটাই ভাল পালানো ৷ ঘরের সানসেটের উপর বস্তা মুড়িয়ে শুয়ে থাকতাম ৷ আল্লাহকে ডাকতাম ঘনঘন ৷ ছোট বোনের বেশি ভয় পেতাম ৷ বালিশ উল্টিয়ে দ্যাখে, (যেমন করে মেয়েরা ছারপোকা খোঁজে) বালিশের মধ্যে পালিয়েছি নাকি !! একদিন সকালে হঠাৎ বাবার পায়চারি সন্দেহ হল ৷ বড় আপু মেহেরুল বাড়ির ভিতর থেকে বের হবার পথ অবরোধ করে দাঁড়িয়ে আছে ৷ আমি ঘরে ঢুকলাম ৷ পালানোর কোন পথ পাচ্ছিলাম না ৷ আগে যেখানে যেখানে পালিয়েছি সেগুলো ছোট বোনের মুখস্থ ৷ অর্থাৎ নতুন ফন্দি করতে হবে ৷ হঠাৎ দেখি পাটের বস্তা ৷ তাতে ছিল কাঁচা কলা ৷ পাটের বস্তা থেকে কাঁচা কলা বের করে আমি ঢুকে পড়লাম ৷ দু ঘন্টা ধরে খোঁজা খুঁজি ৷ মেহেরুল দীর্ঘ শ্বাস নিয়ে বলে:—যাবে কোথায় ? আমার সামনে ঘরে ঢুকলো ৷ তাছাড়া পিছনের দরজা বাইরে থেকে শিকল মারা ৷ আমি এই দরজায় দারোয়ান হয়ে দাঁড়িয়ে ৷ আমার মনে হয় কামরুল যাদুবিদ্যা জানে ৷ ইঁদুর টিঁদুর হয়ে পালিয়ে আছে !!ছোট বোন বলে :—ইঁদুর হলে খুঁজে পেতাম ৷ মাছি হইছে মনে হয় ৷
মা তো সেই কান্না ! বলে— বিড়াল দ্যাখ ঘরে নাকি ! ও আল্লাহ এ কি শুনলাম !! সর্বনাশে কথা !! ঘর থেকে বিড়াল বের কর ৷
ছোট বোন বলে:— বিড়াল যদি একবার ধরতে পারে ইঁদুর, তাহলে মন্ত্র পড়ে মানুষ হতে পারবে না ৷
মেহেরুল বলে:—মশা মাছি কিচ্ছু মারা যাবে না ৷ মা তো মেঝেতে বসে বলে , আমার ছেলের কিছু হলে ...........৷
বাবা বলে —চুপ করো ৷ মেয়ে লোকের বুদ্ধি চুলের ডগায় থাকে ৷
মেহেরুল বলে— এই কথা কিন্তু ঠিক বলোনি বাবা ! তোদের বলিনি , তোদের আম্মার বলছি ৷ ও তাহলে ঠিক আছে ! আম্মা কাঁদ কন্ঠে বলে — হো ঠিকি তো ! যার ঘা তার ব্যাথা ৷
বাবা বলে —সানসেটের উপর বস্তায় কি ? ছোট বোন বলে:—আব্বা কলা রাখচি ৷ বস্তায় রাখলে তাড়াতাড়ি পাকে ৷ দ্যাক আবার বস্তার ভিতর ঢুকচে নাকি ৷
আম্মা বলে :— তোমার আজাইরা কথা !
:—আজাইরা কি !! বস্তার ভিতরেও তো ঢুকতে পারে ৷
ছোট বোন বলে—বস্তায় কলা রাখছি ৷ ও মা, ধান সিদ্ধ করা পাতিলের ভিতরে তো না ?
:—মাচায় উঠে দেখ, হতেও পারে ৷
ও আল্লা ঘটনা তো ঘটে গেছে ! হ্যাঁচ্চি নাকের ডগায় এসে হাজির ! ধরলাম নাক মুখ চেঁপে ! অসময়ে হ্যাঁচ্চি ! কিছুতেই আটকাতে পারছি না ৷ সর্বনাশ ! হ্যাঁ......চ্ছো
বস্তা ছিঁড়ে লন্ডভন্ড ৷ হাত দিয়ে নাক মুখ চেঁপে ধরলেও হ্যাঁচি আটকাতে পারলাম না ৷ মুখটা নাকের ঘি তে বর্ষার কদম ফুল ৷ ছোট বোনের চিল্লানিতে কানের পর্দা ঝং ঝং করে উঠে ৷
মেহেরুল বলে:—আব্বা হাজাম কি চলে গেছে ? আমি বস্তার ভিতর থেকেই বলি
— আমি তো মুসুলমানি নেব না ! তুমি নেও গে !
বাবা বাম হাতের তালু দিয়ে ডান চোখ ডলতে ডলতে ঘর থেকে বের হয় ৷
মেহেরুল :— আমি যদি ছেলে হতাম সকাল বিকাল মুসুলমানি নিতাম ৷
— হো ভাল হইছে !
আম্মা:— তোরা থাম তো ! বাবা আমার ঘেমে গেছে ! বের হও আমার সুনা মানিক !
ছোট বোন :— হিরা মানিক কও , আল্লাদে আর বাঁচি না ৷ বিয়ের বয়স হয়ে গেছে এখনও মুসুলমানি নেওয়ার খোঁজ নাই ৷ গ্রামে যাওয়া যায় না , সবাই লজ্জা দেয় ৷
— গ্রামে না গেলেই তো হয় !
মেহেরুল কপাল ভ্রু কুচঁকে তাকায় ৷
— তাকিয়ে লাভ নেই ৷
মেহেরুল:— কানের উপর ঠাস করে চড় মারতে ইচ্ছে করে ! ব্যাথা পাবি তাই দিলাম না ৷
দিন যায় ,মাস ঘুর পাক করে আমি অষ্টম শ্রেণীতে পড়ি ৷ তখনও খৎনা হয়নি ৷ এ ফাঁকে বান্ধবী জুটে গেল ৷ আড্ডা দিতাম ৷ উঃ ওরা কি জানতো কামরুলের এখনো খৎনা হয়নি ৷ জানলে কি যে হত !! সম্মান বাঁচানোর মালিক আল্লাহ ৷ বান্ধবীদের নাম বলা দরকার ৷ এলিনা, সাগর দিপা পাল, অনামিকা বিষনু, নিপা বিষনু , সবিতা দাস, পলি, মর্জিনা, সোনিয়া , মঞ্জুআরা ,রিতা, শারমিন ৷ পরিবারের সঙ্গে সভা সমাবেশ করে ঠিক করলাম মুলুলমানির একটা অভিনয় করতে হবে ৷ তা না হলে সমাজে বাবার মুখ থাকে না ৷ ফাইনাল পরীক্ষা দিয়েই কাজ সেরে ফেলবো ৷ স্কুলের বন্ধু বান্ধব যাতে না বুঝতে পারে ৷ শনিবার সকাল বাড়িতে গ্রামের ভাবি, গ্রামের মামী, গ্রামের চাচীরা আনাগুনা করছে ৷ আমি , হাজাম, চাচাতো বোনের স্বামী ঘরের মধ্যে ৷ আমার চোখ বড় হয়ে গেল ৷
বল্লাম :— মিথ্যা মিথ্যা মুলুলমানি , আপনে কেচি,বেল্ড, বাঁশের মতো মোটা সুঁই বের করেন কেন ?
হাজাম:— আরে বাবা , অভিনয় করলে ভাল করেই করতে হয় ৷ লোকে যাতে সন্দেহ না করে ৷
:—আচ্ছা !
হাজাম:— চোখ বন্ধ করো ৷ আপনি ভাল করে ধরেন ?
:— দুলাভাই কিচ্ছু বুঝতে পারছি না ৷ কি করছেন !
:— আরে মোর জ্বালা, অভিনয়টাও যদি না বুঝিস কেমনে হবে !
হাজাম:— লুঙ্গি উপরে উঠাও ৷
:— কেন ?
:— কাপড় জড়িয়ে দিলে লোকের সন্দেহ কেটে যাবে ৷
:— আমার কাছে দেন আমি টাইট করে বাঁধি ৷
:— তুমি পারবা না ৷ এখানে কেউ নাই লজ্জা কি আছে ! চোখ বন্ধ কর ৷
আমি চোখ বন্ধ করলাম ৷
হাজাম:— আমার সঙ্গে সঙ্গে বল ৷ বাবা মার কথার অবাধ্য হব না !
বল্লাম:— শুধু মুসুলমানি নেওয়ার কথাটা বাদে, কোন কথার অবাধ্য হই না ৷
হাজাম :— অভিনয়টা যদি না পারো কেমনে হবে ? সাথে সাথে যদি না বলো তাহলে হয় ৷
:— ঠিক আছে ৷
:— গুরুজনের সম্মান করবো !
:— গুরুজনের সম্মান করবো !
:— বাবা মাকে কষ্ট দিব না !
:—বাবা মাকে কষ্ট দিব না !
:— সুন্দর মেয়ে বিয়ে করলেও বাবা মাকে পর করে দিব না ৷
:— আমি সুন্দর মেয়ে বিয়ে করবো না !
:— মহা জ্বালায় পড়লাম তো দেখি ! সুন্দর মেয়ে কি করলো ?
:— ভাব নেয় বেশী !
:— আচ্ছা কালো মেয়েই বিয়ে করো ৷
:—আমি কালো মেয়েও বিয়ে করবো না ৷ আদর করে রাণী বললেও ফ্যাঁত ফ্যাঁত করে কেঁদে বাপের বাড়ি চলে যাবে ৷ ভাববে আমি ব্যঙ্গ করতে রাণী বলেছি ?
দুলাভাই :— কালা আর ধলা দিয়ে কি হবে, যার একটু চামড়া কাটতে চৌদ্দ বছর পার করলো , সে আবার বিয়ের স্বপ্ন ..... !
:— উঃ
:— আলহামদুল্লিলা ! কাম শেষ ! কি ব্যাথা লাগছে ?
:—আঃ আঃ ! হয়ে গেছে ! মিথ্যা মিথ্যা মুসুলমানি নিতে গিয়ে সত্যিই নিয়ে ফেললাম ৷ আমি তো মনে করছি অনেক ব্যাথা লাগে ৷ আগে জানলে তো প্রতিদিন সকাল বিকাল নিতাম ৷ আমি আগে ভাবতাম সব কাটে ! হঠাৎ বুকের মধ্যে ছেৎ করে উঠে ৷
সাগর দিপা পালের কন্ঠে কানে আসে— আন্টি কেমন আছেন ?
:— আছি ভাল ! তোমরা কেমন আছ ? আমার চোখ কপালে উঠে যায় ৷ মনে মনে ভাবি
:— ও আল্লাহ ! ছাগলের পাল আর আসার সময় পায়নি !
:— আমরা সবাই ভাল আছি আন্টি ৷ কামরুল কোথায় ? ঘরে ?
মেহেরুল:— আরে তোমরা ! কামরুল তো বেড়াতে গেছে মামাদের বাড়ি ৷
পলি :—কবে ?
:— গত কাল ৷
মঞ্জুআরা :— আপু আমার ভাইয়ের সঙ্গে সকালে বাসস্টান্ডে দেখা হয়েছে !
:— ও sorry ! সকালে গেছে ৷
:— আপু তুমি মিথ্যা বলছো ! আমার ভাইয়ের সঙ্গে দেখা হয়নি ৷ বানিয়ে বলেছি ৷ (আমার আপু অতি চালাক ৷ লম্বা মেয়েরা বরাবরই চিকুন চালাক হয়) ৷ বলে
:— মা মা তাড়াতাড়ি নাস্তা এনে দাও ৷ তোমরা সবাই আস , আম গাছের নিচে বসে গল্প করি ৷
সাগর দিপা:— আপু কামরুলের রুমে বসবো ৷
:— রুম তো তালা দেওয়া ৷
সোনিয়া:— চাবি থাকলে খুলে দেন আপু !!
পলি:— আপু দরজায় তালা কই ?
:—কামরুলের রুম বলে কথা ৷ ওযে কিভাবে তালা দেয় জানি না ৷
:—আপু, আপনি তেল মারছেন বুঝতে পারছি ৷ শনি বিয়ে করেছে মনে হয় ৷ বউ নিয়ে ঘরে আছে ৷ আমরা বউ দেখবো ৷
কাম সারছে
Post a Comment
0 Comments